দোসাইদ মধ্যপাড়ায় অবৈধ সিগারেট কারখানা পরিচালনার অভিযোগ, দেখার কি কেউ নেই?

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার সাভার উপজেলার দোসাইদ এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সিগারেট কারখানা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, রাজস্ব আদায় এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে কারখানাটির অনুমোদন, লাইসেন্স এবং কর-শুল্ক পরিশোধসংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহের জন্য কারখানাটিতে যান বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আশুলিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল সাংবাদিকদের ডেকে একটি নার্সারিতে নিয়ে কথা বলেন। ওই সময় কারখানার ভেতরে আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

তাঁদের ভাষ্য, এএসআই সোহেলের কাছে কারখানায় কী পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

পরদিন ১৭ অক্টোবর শনিবার আবারও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী কারখানাটিতে গেলে একটি ছোট লরি ট্রাকে সিগারেট বোঝাই অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান। পরে তাঁরা আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এএসআই ফয়সাল ঘটনাস্থলে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে পাশের একটি দোকান থেকে নম্বর নিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি বলেন, ‘কাউকে পাচ্ছি না, আমি কী করব?’

গণমাধ্যমকর্মীরা পরে আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি তাঁদের বলেন, ‘আমরা কী করব, কলকারখানার লোকদের জানান।’

এর কিছুক্ষণ পর মুঠোফোনে তাঁদের দোসাইদ কলেজের গেটের সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আশুলিয়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা মিজানুর রহমান ও সোহেলকে দেখতে পান বলে জানান। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলেন এবং পরবর্তী বুধবার তাঁদের সঙ্গে বসার আশ্বাস দেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, মিজানুর রহমান ও সোহেল কারখানাটির কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

একটি কারখানার বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে কারখানাটি অবৈধ কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে কারখানাটির বৈধতা যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *