Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
ধনবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু বকরের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

ধনবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু বকরের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির সুবাদে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার সম্পদের উৎস ও আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু বকর সিদ্দিক টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ৬ নম্বর মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের পালবাড়ী গ্রামের মৃত আলী ড্রাইভারের ছেলে। ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে তিনি মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে আবু বকর সিদ্দিকের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক স্থানে জমি, ভবন ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে উঠেছে। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে প্রায় চার শতক জমির ওপর আবু বকর সিদ্দিক একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবনটিতে একাধিক আধুনিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগকারীদের হিসাবে, ওই ভবন ও জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা।

এ ছাড়া মধুপুরের সিদ্দিক পাম্পের পশ্চিম পাশে প্রায় ১২ শতক জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। পাশাপাশি মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ এবং ময়মনসিংহ শহরতলীতেও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের চাকরির আয় দিয়ে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। তাদের দাবি, আবু বকর সিদ্দিকের নামে-বেনামে থাকা সম্পদ, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেন, বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি নথি বা আদালতের রায় পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “আমি যা কিছু করেছি, সঠিকভাবেই করেছি। এ ছাড়া আমি গরিব-দুঃখী মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা করি।” তার দাবি, তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়।

অন্যদিকে, আবু বকর সিদ্দিকের পারিবারিক বিষয় নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। তার মায়ের একটি বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, “আমি জারজ সন্তান জন্ম দিয়েছি, আমাকে পর্যন্ত খাবার দেয় না।” তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে যদি তার বৈধ আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা। একই সঙ্গে তার চাকরিজীবনের আয়, সম্পদের বিবরণ, জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ এবং সম্পদের অর্থের উৎস যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *