নাছিমা খাতুন সুলতানা:
ময়মনসিংহের ধৌবাউড়া উপজেলায় একই জমি দুই দফায় বিক্রি এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের মুক্তাগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জমিটি উদ্ধার ও নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, গামারীতলা ইউনিয়নের রানীপুর গ্রামের মৃত আরফান আলীর ছেলে মো. রজব আলী নিজ প্রয়োজনে ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ মুক্তাগাছা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের কাছে ৬৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। সাফ-কাওলা দলিলের মাধ্যমে সম্পাদিত ওই জমির দলিল নম্বর ৫২১৯ এবং দাগ নম্বর ১৩৬ বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি কেনার পর আব্দুল জব্বার সরল বিশ্বাসে জমিটি ভোগদখলে নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চাষাবাদ করে আসছিলেন। তবে পরবর্তীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মালিক রজব আলী একই দাগের ওই জমি পরবর্তীতে আবারও মুক্তাগাছা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. মস্ত মিয়ার কাছে বিক্রি করে দলিল করে দেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গংদের অভিযোগ, মো. মস্ত মিয়া ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের চাষাবাদ করা জমিতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং জোরপূর্বক ধান কেটে নিয়ে যান। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি নিয়ে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, একই ব্যক্তি একই দাগের জমি দুই জায়গায় বিক্রি করেছেন বলে তারা জানেন। এ বিরোধের দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির আইনগত ও প্রশাসনিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। জোরপূর্বক দখল ও ফসল কেটে নেওয়ার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল থেকে জমি উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসন, ধৌবাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৃত আব্দুল জব্বারের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।