আব্দুল গফুর:
কক্সবাজার শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাসপাতাল সড়ক। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে জমজমাট থাকে পুরো এলাকা। তবে এই ব্যস্ততার সুযোগে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফার্মেসি, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠছে ফার্মেসি। অনেক দোকানে নেই বৈধ লাইসেন্স, আবার কোথাও নেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট। ফলে রোগীদের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা নিয়ন্ত্রিত ওষুধ।
স্বাস্থ্যসচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ভুল ওষুধ গ্রহণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, এমনকি নকল ওষুধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর-এর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও তা যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অনিয়ম যেন দিন দিন বাড়ছেই।
একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, হাসপাতাল এলাকার মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ফার্মেসি পরিচালনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষ আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর-এর ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও তা নিয়মিত নয় এবং স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না।
সচেতন মহলের মতে, হাসপাতাল সড়কের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ নজরদারি ইউনিট গঠন না করলে এই অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “ওষুধ কোনো সাধারণ পণ্য নয়—এটি সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। এখানে অনিয়ম মানে সরাসরি জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া।” তারা দ্রুত কঠোর নজরদারি ও বিষয়ে লাইসেন্স যাচাই ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া দরকার।
আইন অনুযায়ী প্রতিটি ফার্মেসিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন। বেশিরভাগ দোকানেই এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে ভুল ডোজ, ভুল ওষুধ কিংবা বিপজ্জনক ওষুধের মিশ্রণ রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ড্রাগ প্রশাসনের অবস্থান
জেলা ড্রাগ প্রশাসনের ওষুধ পরিদর্শক কাজী মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, ফার্মেসি পরিচালনায় লাইসেন্স ও নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিই। তবে আমাদের মনিটরিং সবখানে চলমান। হাসপাতালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কড়া নজর রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ফার্মেসি ও অনিয়মে জড়িত ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আনা হবে শাস্তির আওতায়।