মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
“ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) বিকাল ৩টায় ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হান কবির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি এখন একটি সম্মানজনক পেশা। ক্রীড়াঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ে হাজারো তরুণ তাদের পরিবারের ভরসা হয়ে উঠছে। মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলার মাঠই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নতুন কুঁড়িদের জন্য আমরা নিয়মিত এমন আয়োজন অব্যাহত রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার ঘোষণা করেছেন— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাই সবাইকে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে হবে, সবার আগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখে এবং খেলাধুলাই পারে মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং থেকে মুক্তি দিতে। এই খেলাধুলা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আগামীতে আরও বড় আকারে এই আয়োজন করা হবে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মোঃ মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব, এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আটটি ইভেন্টে বিজয়ী ক্ষুদে খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রেস্ট, ট্রফি ও মেডেল পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এ ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবাসহ বিভিন্ন খেলায় জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দসহ ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রাক্তন খেলোয়াড়, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।