নদী সম্মীলন তরী বাংলাদেশের আয়োজনে পানির বিষয়ে ভারত হচ্ছে একটা অবিশ্বস্ত বন্ধু- ড. মনজুর আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন।

ইমন হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে;

নদী সম্মীলন তরী বাংলাদেশের আয়োজনে পানির বিষয়ে ভারত হচ্ছে একটা অবিশ্বস্ত বন্ধু- ড. মনজুর আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন। অন্ততপক্ষে পানির বিষয়ে আমাদেরকে ভারত নির্ভর থাকলে হবে না। অন্য যেকোনো বিষয়ে নির্ভর থাকলেও কোন সমস্যা নেই। পানির বিষয়ে ভারত হচ্ছে একটা অবিশ্বস্ত বন্ধু। কারণ, ব্রহ্মপুত্রের যে ব্যপক পানি সেটাকে রোধ করে ভারতের পশ্চিম অংশের সঙ্গে কানেক্ট করতে চায়।

তিনি বলেন, সেটা যদি করে তাহলে বাংলাদেশের জন্য একটা সমূহ বিপদ বলে আমি মনে করি। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্রের আরেক অংশ চায়নার ভিতরে চলে গেছে সেখানেও চায়না একটি সুপার ড্যাম তৈরি করছে। সেখানে যদি পানি ধরে রাখে এবং কোন কারণে হঠাৎ যদি সেটা ছেড়ে দেয় তাহলে ভারত এবং বাংলাদেশেরও ক্ষতি হবে। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে নিয়ে আমরা একটু চিন্তাভাবনা করতে হবে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর পূর্বপাড় কাশিনগর এলাকায় নদী সম্মিলন-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা বিষয়ক সংগঠন তরী।

 

ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন, পানির বিষয়ে আমাদেরকে সেল্ফ সাফিসিয়েন্সি আনতে হবে, গঙ্গা এবং তিস্তা ব্যারেজকে আবারও রিভিজিট করতে হবে। পাশাপাশি এই ব্যারেজগুলো আমরা চালু করতে পারি কিনা সে বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।

জিও পলিটিক্যাল বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত পানির ফ্লো-কে মানিপুলেট করে এটাকে জিও পলিটিক্যাল উইপন হিসেবে ইউজ করে। যেমন, ভারত থেকে যেসব নদীর শাখা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাদের মধ্যে ব্যাপক পরিমাণ পানি বঙ্গোপসাগরে জমা হয়। বর্ষাকালে এসব নদীর পানি ফুলেফেঁপে প্রায় এক লক্ষ ৪০ হাজার কিউবিট মিটার পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হয়। আর গ্রীষ্মকালে মাত্র ৫% পানি বাংলাদেশে আসে। যে কারণে গ্রীষ্মকালে ভারতে পানি তো দেয়ই না, উল্টো গঙ্গার পানি তারা ব্যাপকভাবে নিয়ে যাচ্ছে। তিস্তা এবং গঙ্গা ব্যারেজকে নিয়ে আবারও কাজ শুরু করার জোর দাবী জানান জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ইউএন কনভেনশনটাকে ল্যাটিফাই করা হোক এবং প্রায়োরিটি বেসিসে এটা নিয়ে দেরি করার যৌক্তিক কোন কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নদী সম্মিলনে তরী’র আহবায়ক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ও লেখক আমিন আল রশীদ, বাংলােদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাউথ ইস্ট ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আনাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট এ.কিউ.এম সোহেল রানা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা জাফর সাদেক এবং গীতা পাঠ করেন উত্তম কুমার দাস। পরে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর ‘ভূ- রাজনীতি ও বাংলাদেশের নদ-নদী’ বিষয়ে প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘নদী সুরক্ষায় গণমাধ্যমের অংশীদারিত্ব ও ভূমিকা’ বিষয়ে অপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে তৃতীয় অধিবেশনে ‘নদী বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন ও কর্মকৌশল’ এর আরেকটি আলোচনা সভা করা হয়। চতুর্থ অধিবেশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চা চক্রের মাধ্যমে দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *