মোঃআনজার শাহ :-
কুমিল্লার বরুড়ায় মাত্র ৬ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে। এই ঘৃণ্য অপরাধের বিচার না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বরুড়ার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বড় কালিকাপুর গ্রামের এলাকাবাসী। শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে শত শত ক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কের লক্ষীপুর পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই দিন নলুয়া চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, বরুড়ায় এলাকাবাসীর আয়োজনে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। “শাস্তি চাই, শাস্তি চাই”এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
যেভাবে ঘটেছিল পাশবিক ঘটনাটি:গত ২ জুন সন্ধ্যায় বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বড় কালিকাপুর গ্রামে নিজের বাড়ির পাশেই খেলতে যাওয়া ৬ বছরের ওই নিষ্পাপ শিশুটিকে একাকী পেয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায় একই এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা ওই শিশু এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। একটি ফুলের মতো শিশুর এই করুণ পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোক ও ক্রোধের ঢেউ বইছে।
তিন দিনেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই:ঘটনার পরপরই থানায় মামলা দায়ের করা হলেও তিন দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মূল অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হন।
সড়ক অবরোধে উত্তাল বরুড়া:শনিবার বিকেলে গ্রামের নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করে দেন। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল স্লোগান দিতে থাকেন। এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নলুয়া বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ সমাবেশ:নলুয়া চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশুদের প্রতি এই ধরনের ঘৃণ্য ও নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তাঁরা বলেন, সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অপরাধীর দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ কখনো বন্ধ হবে না বলে তাঁরা সতর্ক করে দেন।
পুলিশ কী বলছে:বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, “অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তবে এই ‘চেষ্টা অব্যাহত’ বক্তব্যে মোটেও সন্তুষ্ট নন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁরা সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিন দিনেও একজন পরিচিত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা গেলো না কেন? তাঁরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে গ্রেফতার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জনদাবি একটাই, অবিলম্বে গ্রেফতার, সর্বোচ্চ শাস্তি:
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন একটি ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশু পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো, সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, অথচ অভিযুক্ত ধর্ষক এখনো দিব্যি মুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে এই বিচারহীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে তিনটি জোর দাবি জানিয়েছেন
– অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে অতিসত্বর গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করতে হবে।
– আহত শিশুর সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
– ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।