আমির হোসেন:
ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে স্থায়ীত্বশীল তামাক নিয়ন্ত্রণ ও এর সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে, পাশাপাশি দুস্থ মানব উন্নয়ন সোসাইটি (দুমাউস) এর আয়োজনে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মগড় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল-১) মোঃ জামাল হোসেন। তিনি বক্তৃতায় বলেন, তামাক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। দেশের স্থায়ীত্বশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মগড় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন এবং পরিবার-পরিকল্পনার ইউনিয়ন পরিদর্শক মোঃ শহিদুল ইসলাম। তারা বক্তৃতায় বলেন, তামাকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার কমানোর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নয়, শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে এই বিষয়ে সক্রিয় করতে হবে।
অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুমাউস’র ঝালকাঠি সদর শাখার ব্যবস্থাপক অশোক কুমার বড়াল, মগড় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর সাঈদা আক্তার, ইউপি সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় উদ্যোক্তা, চকিদার, দফাদার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত সকলেই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানান এবং স্থানীয় পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দুস্থ মানব উন্নয়ন সোসাইটি (দুমাউস) এর কো-অর্ডিনেটর আবুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন দুমাউস’র প্রধান হিসাব রক্ষক ও অডিটর মোঃ আব্দুর রশিদ হাওলাদার। তারা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, স্থায়ীত্বশীল তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষামূলক প্রচারণা, এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরো বলেন, তামাকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার কমাতে স্থানীয় স্কুল, কলেজ, ও জনসমাজকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন এবং প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। সভার শেষে সকল অংশগ্রহণকারী স্থায়ীত্বশীল তামাক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যে সচেতন ও উদ্যোগী থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।