মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবং নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, আহমেদুর রহমান তনুসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সভায় অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “আমি বিরোধী দলের এমপি। কিন্তু সরকারি দলের কাউকে নিয়ে গেলে যদি মানুষের কাজটা তুলে আনা যায়, তাহলে আমি তার কাছে যাই। এই ওয়ার্কিং রিলেশনটা আমাদের খুবই ভালো। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। নারায়ণগঞ্জের যেকোনো ইতিবাচক কাজে আমরা আছি।”
এনসিপির এই সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, “এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন সাহেবকে আমরা অন্য দলের বলে মনে করি না। তাকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চাই।”
তিনি বলেন, “অতীতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বোঝেননি। তাই নারায়ণগঞ্জ এখনো ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের জন্য আমরা পাঁচজন এমপি এক আছি। ব্যবসায়ীদের পাশেও আমরা আছি। একসঙ্গেই কাজ করে যেতে চাই।”
বিচ্ছিন্নভাবে নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে সুসংগঠিতভাবে সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের আহ্বান জানান আবুল কালাম। তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করি। এটা না করে আমাদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। নইলে বরাদ্দের সময় জটিলতা তৈরি হয়। প্রয়োজনে একই ডিও লেটারে আমাদের পাঁচজন এমপির স্বাক্ষর থাকবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতেও সুবিধা হয়। আমরা বিরোধী দল, সরকারি দল—যারাই আছি, নারায়ণগঞ্জের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।”
সরাসরি সভায় উপস্থিত হতে না পারায় মুঠোফোনে দেওয়া বক্তব্যে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “আমরা প্রত্যেক সংসদ সদস্য আগামীর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নমূলক কাজে অংশীদার হব। সুন্দর ও প্রগতিশীল নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে আমরা একত্রে আছি।”
সভাপতির বক্তব্যে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, “এই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে যারা বিহাইন্ড দ্য সিনে কাজ করেন, তাদের আমরা একত্র করেছি। তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় ব্যবসাখাত উন্নয়নের দিকে যাবে। আপনাদের সবার পরামর্শ নিয়েই কাজ করে যাব।”
নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো কোন্দল দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তবে নারায়ণগঞ্জ রাজস্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখনো জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলা কিংবা বিশেষ ক্যাটাগরির জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান মাসুদুজ্জামান।
পাঁচ সংসদ সদস্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উন্নয়নে আপনারা একসঙ্গে কাজ করবেন এবং আপনাদের মাধ্যমেই উন্নয়ন হবে বলে মনে করি।”
এ সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন মন্ত্রী দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবিও জানান নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
সভায় বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। এ জেলার শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পাঁচ সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতারা একসঙ্গে কাজ করলে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।