মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ সংরক্ষণ, মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং) পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারি দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন হওয়া উচিত। শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ এইচ এম রাসেদ। তিনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে সদর দপ্তরের উপপরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং) সৈয়দ আহাম্মদ কবির পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম, পরিবেশগত মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী পরিচালক মো. মোবারক হোসেন ও মো. রাসেল মাহমুদ, পাশাপাশি পরিদর্শক টিটু বড়ুয়া, মো. হুজ্জাতুল ইসলাম এবং রিমা খাতুন। তারা পরিবেশ দূষণ রোধে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তারা পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নদী ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সভায় বক্তারা একমত হন যে, নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগ এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশের মানোন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।