সরকারি রাস্তা কেটে আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন: প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত বরিশাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

বরিশাল সদর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি রাস্তা কেটে পাইপ বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে কালো মাটি উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন আব্দুস সালাম, চান মিয়া ও রাহাত শিকদারসহ কয়েকজন কথিত নেতা। এলাকাবাসীর দাবি, তারা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনের নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে নির্বিঘ্নে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি সম্পদ ঝুঁকিতে, বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয় সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার বিভিন্ন অংশ কেটে পাইপ বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে নদী থেকে বালু ও মাটি তোলা হচ্ছে। এতে করে সরকারি রাস্তার স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি নদীর তলদেশে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রাতদিন মেশিন চালিয়ে মাটি তোলে। রাস্তা কেটে পাইপ বসানো হয়েছে—আমরা চলাচল করতেও ভয় পাই। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কিছু বললে উল্টো হুমকি দেয়। প্রশাসনের কাছে বলেও কোনো লাভ হয় না।”
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এ বিষয়ে জানতে বরিশাল সদর থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত বড় অবৈধ কার্যক্রম চললেও প্রশাসন কেন নীরব? একজন স্থানীয় শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ধরনের কাজ একদিনে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে চলছে। প্রশাসন না জানার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অদৃশ্য কোনো কারণে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” রাজনৈতিক অঙ্গনেও ক্ষোভ এ বিষয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক বিএনপি-সমর্থিত প্রবীণ কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। অথচ এখন কিছু নামধারী নেতার কারণে আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। যারা এসব করছে, তারা প্রকৃত নেতা নয়—এরা সুযোগসন্ধানী।”
আরেকজন তরুণ রাজনৈতিক কর্মী বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে। এতে সাধারণ মানুষ আমাদেরই দোষ দিচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া জরুরি।”পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা, এলাকাবাসীর হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অব্যাহতভাবে মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে এবং ভাঙনের ঝুঁকি বাড়বে। এতে করে কৃষিজমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়তে পারে।এলাকাবাসী একত্রে বলেন,এই চক্রের অত্যাচার বন্ধ না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। শুধু রাস্তা নয়, পুরো এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সচেতন মহল মনে করছেন, অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।তাদের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িক বন্ধ করলেই হবে না—এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক প্রশাসন, আর অবৈধ মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *