নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি শ্রীমঙ্গলে খাল পুনঃখনন প্রকল্প

মো. সুমন মিয়া:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুনবীর আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অব্যবহৃত ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্পন্ন হওয়া ৬৪০ মিটার খননকাজে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ভ্যাট, আয়করসহ ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভুনবীর আলিয়াছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন ছিল। এ প্রকল্পের সার্বিক তদারকিতে ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ভুনবীর আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় খাল খননের পাশাপাশি দুই পাড় বাঁধাই, বৃক্ষরোপণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আরসিসি (RCC) রিং পাইপ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন।

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী। পরদিন (১৮ এপ্রিল) ২ হাজার ৭৫০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৬৪০ মিটার খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস জানায়, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে ৩০ জুনের মধ্যে ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। খালের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, শ্রমিকদের মজুরি, এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহার, পরিবহন বাবদ এবং ভ্যাট-আয়করসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট বাবদ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আয়কর বাবদ ২৯ হাজার ৪১২ টাকা। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল, আলিসারকুল, বাদে আলিশা, শাসন রাজপাড়া এবং পাত্রীকুল মৌজার প্রায় চার হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি ছিল। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট ছিল এ এলাকার কৃষকদের নিত্যদিনের সমস্যা।

চাষিরা বলেন, পুরো খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বিশেষ করে ভুনবীর ইউনিয়নের পাঁচটি মৌজার প্রায় চার হাজার একর জমি পুনরায় চাষাবাদের আওতায় আসত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬৪০ মিটার খাল পুনঃখনন করা সম্ভব হওয়ায় প্রকল্পের বাকি অংশ অসম্পন্ন থেকে যায়। সম্পন্ন হওয়া কাজের জন্য মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে ভ্যাট, আয়করসহ ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ৩০১ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল স্থানীয় জনগণ ভোগ করতে পারেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননকাজ শেষ না হওয়ার পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়াই প্রধান সমস্যা ছিল। বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অব্যবহৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *