কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ২ নম্বর আমিরাবাদ ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। এরই মধ্যে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক জাহাঙ্গীরের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তাঁর সমর্থকরা। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান জাহাঙ্গীর ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব সংগঠনে তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করেছেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর সমর্থকরা জানান।
এ ছাড়া আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সমর্থকদের দাবি, সৎ, নিষ্ঠাবান, সমাজসেবক ও জনদরদি হিসেবে জাহাঙ্গীরের একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে তিনি এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বলেন, “আল্লাহ যদি সহায় থাকেন এবং জনগণ আমার পাশে থাকেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ করে যাব। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি, ভবিষ্যতেও করব।”
তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মাননীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চাই।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচনে যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থী নির্বাচিত হলে আমিরাবাদ ইউনিয়নের শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।