বিনোদন প্রতিবেদক ::
নাট্যাঙ্গনের তরুণ নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও তারকারা গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি প্রিয় এই নির্মাতাকে স্মরণ করছেন।
ঢালিউডের চিত্রনায়িকা সুনেরাহ বিনতে কামাল সজীবকে স্মরণ করে লিখেছেন, ‘সেইদিনই দেখা করে গেলেন। আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন, বললেন আমরা একসঙ্গে সুন্দর গল্প করব। কালকেই ভাবছিলাম আপনার কথা। জীবন কি অনিশ্চিত ভাইয়া। মারুফ হোসেন সজীবের আত্মার শান্তি কামনা করি।’
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লিখেছেন, ‘আমাদের সকলের প্রিয় নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।’
অভিনেত্রী সাফা কবিরও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সজীবের সঙ্গে তার কাজের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘কিছু মানুষের মৃত্যু আপনাকে এতটাই স্তব্ধ করে দেয় যে আপনি অসহায় হয়ে পড়েন। আপনার সম্পর্কে লেখার মতো সাহস বা শব্দ কোনোটাই এখনো খুঁজে পাচ্ছি না।’
সাফা কবির জানান, একসময় সজীব তার কাছে ছয়টি চিত্রনাট্য নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আপু, এই ছয়টি চিত্রনাট্য আপনার। আমরা একটি দিয়ে শুরু করব, তারপর ধীরে ধীরে ছয়টিই শেষ করব একসঙ্গে।’
সজীবের লেখার প্রশংসা করে সাফা কবির তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি অসাধারণ একজন লেখক, ভাইয়া। সুন্দর কাজ করার জন্য আমাদের সুন্দর চিত্রনাট্য খুব দরকার।’
সজীবের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতিও তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, অনেক সময় সজীব শুধু হাতে চকলেট নিয়ে শুটিং সেটে এসে বলতেন, ‘অনেকদিন দেখা হয় না আপু, তাই দেখা করতে এলাম।’
সাফা কবির আরও লেখেন, ‘আপনি আর কখনো আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন না—এটা আমি কীভাবে মেনে নেব? সেই সুন্দর হাসির মানুষটিকে আর কখনো দেখতে পাব না, এটা কীভাবে মেনে নেব? আল্লাহ যেন আপনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানটি দান করেন এবং আপনার পরিবারকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করেন। সজীব ভাই, আপনি সারাজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’
চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা সজীবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবও। তিনি লিখেছেন, ‘আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন একটা খারাপ খবর পাব, সত্যি বলতে একদমই আশা করিনি। নিউজটা পাওয়ার পর কীভাবে প্রসেস করব, সেটাই বুঝতে আমার প্রায় পনেরো–বিশ মিনিট লেগে গেছে। অনেকক্ষণ থমকে ছিলাম।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে মারুফ হোসেন সজীব ভাই আর আমাদের মাঝে নেই। অথচ সেদিনই তো কথা হলো। সামনে কাজ হবে, দেখা হবে, কত স্বাভাবিক কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল আমাদের কথায়। অথচ জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, কতটা ছোট, মৃত্যু আবারও খুব নির্মমভাবে সেটা মনে করিয়ে দিল।’
অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনাও সজীবের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, এমন একটি খবর নিয়ে আমাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই তার কাছেই ফিরে যাব।’
সজীবের সঙ্গে পুরস্কার অনুষ্ঠানের স্মৃতি তুলে ধরে ভাবনা জানান, মারুফ হোসাইন সজীব মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছিলেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ওই রাতের পুরস্কার অনুষ্ঠানেও তারা একসঙ্গে বসেছিলেন।
ভাবনা আরও জানান, মৃত্যুর আগে সজীব তাকে মেসেঞ্জারে কয়েকটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপু, কেমন আছেন? আপনি এখন আর নাটকে অভিনয় করেন না কেন? আমি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
সজীবের মৃত্যুর পর সেই বার্তাগুলোই বুকভরা কষ্ট নিয়ে পড়ছেন বলে জানান ভাবনা। তিনি লেখেন, ‘জীবন সত্যিই খুব ছোট। আমরা নিজেদের জীবন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে, আমাদের প্রিয় বা গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলোর খোঁজ নেওয়াটাই অনেক সময় ভুলে যাই। তারপর হঠাৎ করেই শুনি কেউ আর নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে মানুষটির সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও কথা হচ্ছিল, তিনি আর এই পৃথিবীতে নেই। আল্লাহ যেন সজীব ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার প্রিয়জনদের এই শোক ও ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন।’
সজীবের মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেত্রী তানজিন তিশাও। তিনি লিখেছেন, ‘ভাইয়া, আপনি ফোন দিয়ে বললেন, “কতদিন দেখা নেই আপু, কত গল্প জমে আছে! সুন্দর সুন্দর গল্প করতে হবে আপু আমাদের। খুব তাড়াতাড়ি রেস্টুরেন্টে এসে দেখা করব।” দেখে গেলেন না ভাইয়া? গল্পগুলো বলে গেলেন না? গল্পগুলো না বলেই চলে গেলেন।’
মারুফ হোসেন সজীবের আকস্মিক মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতি তুলে ধরে প্রিয় এই নির্মাতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিনোদন অঙ্গনের মানুষজন।