আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করা অন্তত ২৮ সশস্ত্র যোদ্ধাকে গুলি করে হত্যার দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের মধ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কট্টরপন্থী যোদ্ধারাও রয়েছেন।
রোববার এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে বলেছে, সাবেক আফগান সরকারের নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে গঠিত ওই সশস্ত্র দলকে পাকিস্তানের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী সরাসরি ইন্ধন জুগিয়েছে।
তবে আফগান সরকারের এ দাবি এবং হতাহতের সংখ্যা নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। কাবুলের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
আফগানিস্তানের অভিযোগ, সাবেক আফগান সামরিক সদস্যদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সীমান্ত অতিক্রম করে আফগানিস্তানে প্রবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা সহায়তা করেছে। দেশটির ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এ অভিযোগ করা হলো।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তান আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, শনিবার পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া নুরিস্তানের কামদেশ এলাকায় বড় ধরনের নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে একটি সশস্ত্র দল অনুপ্রবেশ করে। খবর পেয়ে আফগান বাহিনী দ্রুত অভিযান শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়।
একপর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া হামলাকারীদের মধ্যে যারা বেঁচে যায়, তারা পুনরায় সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানের দিকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও মিলিশিয়া সদস্যরা প্রাথমিক পরিকল্পনায় যুক্ত থাকলেও লড়াই চরম আকার ধারণ করায় তারা পিছু হটে। কাবুলের দাবি, সহায়তা দেওয়ার নামে সাবেক আফগান নিরাপত্তাকর্মীদের পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নুরিস্তানের দিকে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, ওই হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানির অভিযোগ তোলে। পরে জাতিসংঘ মিশনও অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে।