মোঃআনজার শাহ
সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি। মতবিনিময়ে কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, স্থানিক পরিকল্পনা ও চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় কক্সবাজারকে বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আলোচনায় উঠে আসে ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং পর্যটননির্ভর এলাকার টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো।
এ ছাড়া কক্সবাজারের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও আলোকপাত করা হয়। বক্তারা বলেন, পর্যটননগরীর উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনি সমুদ্র, বন, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী কউকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শন শেষে প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশের অহংকার; তাই উন্নয়নের প্রতিটি পদক্ষেপে পরিবেশের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদস্য (প্রকৌশল) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত, পিপিএম, ইঞ্জিনিয়ার্স, উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. তানভীর হাসান রেজাউল এবং সচিব (উপসচিব) সানজিদা বেগম। এ ছাড়া কউকের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কক্সবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ওপর মতবিনিময়, প্রকল্প পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।