আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরের মিখমাস গ্রামে একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। এ সময় মসজিদের বাইরের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগানও লিখে যায় হামলাকারীরা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি সূত্র ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মসজিদটির কাছেই বসবাস করেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দা আত্তা কানান। মসজিদ থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে তাঁর বাড়ি। কানান এএফপিকে জানান, বুধবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর কাচ ভাঙার শব্দ শুনে তিনি দ্রুত মসজিদের দিকে ছুটে যান।
তিনি বলেন, মসজিদে তখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। দ্রুত দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় তরুণেরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুনের একাংশ নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের দ্রুত উদ্যোগের কারণে পুরো মসজিদটি আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
এএফপির ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, আগুনে মসজিদের ভেতরের কার্পেট পুড়ে গেছে এবং দেয়ালগুলো কালো হয়ে গেছে। সংবাদ সংস্থাটির এক সাংবাদিক জানান, মসজিদের বাইরের দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্লোগানে লেখা ছিল, ‘আমরা চুপ আছি বলে ভেবো না যে আমরা ঘুমিয়ে আছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা কানানের দাবি, হামলাকারীরা একটি গাড়িতেও আগুন দিয়েছে।
কানান আরও জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার আশঙ্কায় মিখমাস গ্রামের বাসিন্দারা রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত বাড়িগুলোতে আগুন দেওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় তরুণেরা রাত জেগে নজরদারি করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এএফপিকে জানিয়েছে, মসজিদে আগুন দেওয়া, দেয়ালে স্লোগান লেখা এবং একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার খবর পাওয়ার পর সেনাসদস্যদের মিখমাস গ্রামে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে বাহিনী।