পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে ‘গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা’, অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ি

 

স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় পাওনা টাকা দাবি করায় মো. জুয়েল মেলকার (২৮) নামে এক যুবককে বোরাক দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবক পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী জুয়েল মেলকার গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড গাবুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০১৮ সালে দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাচুয়াখালী গ্রামের (৯নং ওয়ার্ড, ডাক্তার বাড়ি ওরফে ওস্তাবাড়ী) মো. জসীম উদ্দীনের মেয়ে সাবিতুন নাহারের সাথে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর শ্বশুর জসীম উদ্দীন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জুয়েলের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় জুয়েল টাকা ফেরত চাইলে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

জুয়েল অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তার শ্বশুর পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি হয়রানিমূলক মামলা করেন। দুই বছর মামলা চলার পর স্থানীয় সালিশে শ্বশুর টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা আর দেননি। উল্টো স্ত্রী ও শ্বশুর তাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে গলাচিপা থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ করে তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে স্ত্রী জুয়েলের সংসারে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি গলাচিপা থানায় এই সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা শ্বশুর ও তার দলবল জুয়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি বোরাক দিয়ে সজোরে চাপা দেয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার পা ভেঙে যায়।

আহত অবস্থায় তিনি গলাচিপা থানায় অভিযোগ করতে গেলে এসআই হুমায়ুন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন জুয়েল। তিনি জানান, শুরুতে ওই কর্মকর্তা অভিযোগ নিতে অনীহা দেখালেও পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

দুই সন্তানের জনক জুয়েল মেলকার বর্তমানে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আমার শ্বশুর আমাদের সাজানো সংসারটা ভেঙে দিতে চাইছেন। আমি পঙ্গু হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছি। আমি আমার সন্তানদের এতিম করতে চাই না, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।”

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *