নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটরা মসজিদ এলাকার মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পানি দেওয়া বন্ধ করলেই ভবনের ভেতরে আবার দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠছে। এখনো ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একটানা পানি ছিটাচ্ছেন। তবে পানি দেওয়া বন্ধ করলেই আগুন আবার জ্বলে উঠছে।
ভবনটির দারোয়ান মো. মজিবুল্লাহ বলেন, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে আগুন লাগে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে পানি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আগুন এখনো জ্বলছে এবং ধোঁয়া বের হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী বলেন, পানি দেওয়া বন্ধ করলেই আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে। দ্রুত আগুন নেভাতে তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলের সড়ক যানজট ও জনসমাগমমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা চান। সড়ক পরিষ্কার থাকলে পানিবাহী গাড়ির যাতায়াত সহজ হবে এবং আগুন নেভানোর কাজে সুবিধা হবে বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির কসমেটিকস ও ব্যাগের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে আগুন ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটিতে একাধিক গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে।
এদিকে, ভবনটির ষষ্ঠ তলায় থাকা মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। পঞ্চম তলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। পুরান ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামো ও দোকান-গোডাউনের বিন্যাসের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রায় ১৫০ জন সদস্য কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করছেন। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।