পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়াবে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন: চেয়ারম্যান বাদরু

বান্দরবান প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু। তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পূর্ণতা পেতে পারে না।

বুধবার (২১ অক্টোবর) পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সহযোগী সংস্থা ‘আগাপে’র উদ্যোগে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মতবিনিময়কালে খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু বলেন, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রয়োজন কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। এসব মৌলিক চাহিদা পূরণ করা গেলে মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সহায়তামূলক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে চেয়ারম্যান বলেন, অসচ্ছল পরিবারের আয় বাড়াতে ছাগল ও গরু পালন, সেলাই মেশিন বিতরণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক ভিত্তিও গড়ে তুলতে পারবেন।
তিনি উপকারভোগীদের উদ্দেশে বলেন, ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া সহায়তাকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সেগুলোর সঠিক ব্যবহার ও যত্ন নিশ্চিত করতে পারলে আয় বাড়বে, পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং দারিদ্র্য কাটিয়ে ওঠার পথ সুগম হবে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আরও বেশি সহযোগিতার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে। সহযোগী সংস্থাগুলোকে এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে বরাদ্দের সুফল সরাসরি অসচ্ছল মানুষের ঘরে পৌঁছায়।
তিনি সহযোগী সংস্থা ‘আগাপে’র কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সংস্থাটির মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে যথাযথভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাহাড়ি মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সহযোগী সংস্থা আগাপের কর্মকর্তারা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণের সুবিধাভোগী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ স্যানিটেশন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *