নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিকের কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না; লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে।
শিক্ষা বিভাগের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে ৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না এবং লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আপত্তি ওঠে। তাঁদের মতে, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে ফেললে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তি হবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক খসড়া পরিকল্পনাতেও দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের কথা উঠে এসেছে।
প্রাথমিক স্তরে লটারির পক্ষে মত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর বলেন, শিশুদের কথা বিবেচনায় লটারি পদ্ধতি রাখা যেতে পারে। তবে লটারির পুরো প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু হয় ২০১১ শিক্ষাবর্ষে। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও এ পদ্ধতি চালু করা হয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
এরপর ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার পর প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এখন দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতেও লটারি চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সামনে থাকায় কোন শ্রেণিতে কী পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, সে বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।