“প্রাণের দাম ৫ লাখ” সেতুমন্ত্রীর হাতে নিহত ৮৬ পরিবারের চোখে জল, হাতে চেক

 

মোঃআনজার শাহ

সড়কের বুকে যে প্রাণগুলো ঝরে গেছে, তাদের স্মৃতি বুকে নিয়ে গতকাল মিলনায়তনে এসেছিলেন শোকার্ত স্বজনেরা। কারও চোখে অশ্রু, কারও মুখে নীরব যন্ত্রণা তবু জীবনের তাগিদে হাত বাড়িয়ে নিতে হলো রাষ্ট্রের দেওয়া ক্ষতিপূরণের চেক। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬টি পরিবার ও আহত ৩৩ জনের হাতে তুলে দেওয়া হয় মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক।

প্রধান অতিথির আসনে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী,

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। নিহতদের শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরাসরি চেক তুলে দেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মুহূর্তটি ছিল একই সঙ্গে মর্মস্পর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

যা পেলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো,

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকা করে, ৮৬টি পরিবারের জন্য মোট বরাদ্দ ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আহতদের ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে, ৩৩ জনের জন্য মোট ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বিতরণ করা হয়েছে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

এই অর্থ হয়তো হারানো মানুষটির শূন্যতা পূরণ করবে না, তবে ভেঙে পড়া সংসারে একটুখানি আলো জ্বালাতে পারবে এমন প্রত্যাশাই ছিল উপস্থিত সকলের।

মঞ্চ থেকেই উঠল তীক্ষ্ণ প্রশ্ন,

তবে অনুষ্ঠানের সুর সবটুকু মসৃণ ছিল না। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন সড়কে প্রকৃত নিহতের সংখ্যার স্বচ্ছতা নিয়ে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যয়ের হিসাব নিয়েও তিনি সরাসরি জবাব চান। তাঁর এই সাহসী বক্তব্য অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।

যাঁরা ছিলেন অনুষ্ঠানে,

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সচেতনতার আহ্বান ও সরকারের প্রতিশ্রুতি,

অনুষ্ঠানে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা।

সড়কে একটি প্রাণের বিনিময়ে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা কোনো অর্থেই পূরণ হওয়ার নয় তবু রাষ্ট্রের এই উদ্যোগ অন্তত বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো একা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *