মোঃ মনির হোসেন মিয়াজি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাটওয়ারী বাজারে বায়নাকৃত সম্পত্তির মালিকানা ও রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় জনতা ব্যাংকের স্বাক্ষরিত একটি চেকের পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী মোস্তফা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ২ নম্বর বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাজারের উত্তর মাথায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোস্তফা মিজানুর রহমানের ছেলে। তাঁর অভিযোগ, শরিফুল ইসলাম ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল নিয়ে তাঁর দোকানে হামলা চালান। এ সময় তাঁকে ও তাঁর স্বজনদের মারধর করা হয়। পাশাপাশি দোকানের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, শাটার ক্ষতিগ্রস্ত করা, মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটওয়ারী বাজারের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের একটি বহুতল ভবন ও সম্পত্তি কেনাবেচার চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। শরিফুল ইসলামের দাবি, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি ওই সম্পত্তি কেনার জন্য দুই লাখ টাকা বায়না করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সম্পত্তির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্পত্তিটি ইউসিবি ব্যাংকে বন্ধক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় নয় মাস আগে মিজানুর রহমান সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে তাঁদের কাছে আসেন। পরে তাঁরা সম্পত্তি কেনার জন্য বায়না করেন। তাঁর দাবি, সম্পত্তির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁরা ঢাকায় ব্যবসা করেন এবং বারবার যাতায়াত করতে গিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দীর্ঘদিনেও সমাধান না হওয়ায় তাঁরা ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, মোস্তফার অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি নিজের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম এসে তাঁর বাবার বিষয়ে জানতে চান। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শরিফুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জনকে নিয়ে হামলা চালান। এতে তিনি, তাঁর ভগ্নিপতি ও বাজারে থাকা কয়েকজন আত্মীয়স্বজন মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন মোস্তফা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে সিসি ক্যামেরা ও শাটার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। দোকানের বিভিন্ন মালামাল ও ক্যাশে থাকা নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনতা ব্যাংকের স্বাক্ষরিত একটি চেকের পাতাও ছিঁড়ে নেওয়া হয়। এতে তাঁর দোকানের সম্পদ ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বায়নার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে মোস্তফা জানান, তাঁরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে বায়নার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে সম্পত্তির রেজিস্ট্রি, বায়নার টাকা ফেরত এবং ভবনে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় ভবনের চাবি পাটওয়ারী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর, মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া এবং জনতা ব্যাংকের স্বাক্ষরিত চেকের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে শরিফুল ইসলামের বক্তব্য ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।