মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা মোকাবিলা, জনদুর্ভোগ কমানো এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ড্রেন, নালা-নর্দমা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ চলছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নির্দেশনায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের উদ্যোগে এবং উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে প্রধান প্রধান ড্রেন ও খাল থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা, কাশীপুর, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, আলীরটেক, গোগনগর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও খালগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশ দূষণ না ঘটে এবং দুর্গন্ধের সৃষ্টি না হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ড্রেন ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়েই এবার আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ড্রেন পরিষ্কার, ড্রেজিং এবং ময়লা অপসারণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুধু জলাবদ্ধতা নিরসন নয়, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমাতে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনসমাগমস্থল এবং আবাসিক এলাকায় মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। ড্রেন ও খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা গেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ না করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা কিংবা আশপাশে কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত উপজেলা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্ষা শুরুর আগে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করা হলে অনেক এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে তারা নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কাজের গাফিলতি বা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের আশা, সরকারি উদ্যোগ ও জনসচেতনতার সমন্বয়ে এবার বর্ষা মৌসুমে নারায়ণগঞ্জ সদরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।