আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বসনিয়ান-সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাদিক মারা গেছেন। বহুল আলোচিত এই যুদ্ধাপরাধী ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ৮৩ বা ৮৪ বছর হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কারাগারে বন্দি ছিলেন ম্লাদিক। কারাগারের হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সেফ এরিয়া’ এলাকায় প্রায় আট হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ম্লাদিক আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত হয়ে ওঠেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার সময় ম্লাদিকের বাহিনীর হাতে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৭ সালে আদালত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ম্লাদিককে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে আপিল করলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।
২০১৭ সালের রায়ে আদালত তার কর্মকাণ্ডকে মানবজাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন।