বহলবাড়িয়া বিলে নৌকাবাইচ, ঢোল-কাঁসরের তালে মাতল হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢোল-কাঁসরের শব্দ, মাঝিদের ‘হেইও’ ধ্বনি আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বহলবাড়িয়া বিল। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াইকোল এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। এ আয়োজন দেখতে বিলের দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রায় ৩০ বছর ধরে বহলবাড়িয়া বিলে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখা, মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখা।

শনিবার সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বিলের পাড়ে আসতে শুরু করেন। রংবেরঙের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিভিন্ন দলের মাঝিরা। বাঁশির তালে তালে সমান ছন্দে দাঁড় টানতে থাকেন তাঁরা। নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি ও ‘হেইও’ ধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অন্তর বিশ্বাস বলেন, শহরে এ ধরনের আয়োজন দেখা যায় না। ছোটবেলায় দাদার কাছে নৌকাবাইচের গল্প শুনেছেন। এবার নিজের চোখে দেখে তাঁর খুব ভালো লেগেছে।

চড়াইকোল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আজিবর মোল্লা বলেন, ছোটবেলায় এই বিলেই নৌকাবাইচে অংশ নিয়েছেন। মাঝখানে কয়েক বছর আয়োজন বন্ধ ছিল। আবার শুরু হওয়ায় পুরোনো স্মৃতি ফিরে এসেছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘ময়ূর’ নৌকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন ঢাকায় চাকরি করেন। নৌকাবাইচে অংশ নিতে তিনি গ্রামে এসেছেন। অনেক পরিশ্রম করে নৌকাটি সাজিয়েছেন। দর্শকদের এতটা সাড়া পাবেন ভাবেননি জানিয়ে তিনি প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ওয়াশিম আকরাম বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় ৩০ বছর ধরে বহলবাড়িয়া বিলে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। তরুণদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং মাদক থেকে দূরে রাখাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এবারের আয়োজনে অন্তত ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। দর্শকদের ব্যাপক সাড়ায় তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনমেলা। এ ধরনের আয়োজন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *