মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সব ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাঁদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মিস মাম্যাচিং। সভায় বক্তারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে চলাচলের নিরাপত্তা, সাদাছড়ির গুরুত্ব এবং তাঁদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা, সহযোগিতা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁরাও নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
বক্তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির সম্ভাবনা ও সক্ষমতার পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, উপযুক্ত সহায়তা এবং সামাজিক সহযোগিতা পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি স্বাবলম্বী জীবন গড়ে তুলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি সম্মান, সমান অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ তাঁদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মিস মাম্যাচিং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাদাছড়ির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন এবং সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের ক্ষেত্রে সাদাছড়ির ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সাদাছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পথ চলতে সহায়তা করার পাশাপাশি তাঁদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার বিষয়টি অন্যদের কাছে সহজে প্রকাশ করে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকেরা তাঁদের চলাচলের বিষয়ে সতর্ক হতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে সাদাছড়ির ব্যবহার সম্পর্কে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। এ সময় দুইজন মেধাবী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর হাতে সাদাছড়ি তুলে দেওয়া হয়। সাদাছড়ি তাঁদের নিরাপদে চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক দায়িত্বও তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের মূল লক্ষ্য হলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য দূর করা, তাঁদের সক্ষমতার স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন—এমন প্রত্যয়কে সামনে রেখে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাবলম্বী জীবন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।