মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এবং জাল সনদের আশ্রয় নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে অন্তত এক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই তালিকায় রয়েছেন বর্তমানে উপ-সচিব ও এসপি পদমর্যাদার ৪ জনসহ মোট ১৬ জন কর্মকর্তা। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনায় উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম, যারা একসময় জেলাজুড়ে ব্যাপক দাপট দেখিয়েছেন।
জালিয়াতির শীর্ষে নারায়ণগঞ্জের দুই কর্মকর্তা
দুদকের তথ্যমতে, ২০০৮ সালের ২৯তম বিসিএস-এ নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পরিচিত দুই মুখ রয়েছেন। তারা হলেন:
-
নাহিদা বারিক: নারায়ণগঞ্জে পরপর কয়েকবার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা বর্তমানে বন শিল্প কর্পোরেশনের উপ-সচিব। কোটা না থাকা সত্ত্বেও ফল প্রকাশের ৬ মাস পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তিনি নিয়োগ পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
-
এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু: সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), নারায়ণগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে এ শাখায় দুর্নীতির পাহাড় গড়ার অভিযোগ রয়েছে। ৪২ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের কেলেঙ্কারি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর তিনি তড়িঘড়ি বদলি হয়ে সটকে পড়েন। তিনিও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন।
বাবাকে ‘চাচা’ সাজিয়ে পদোন্নতি
জালিয়াতির অবিশ্বাস্য এক ঘটনা ঘটিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেন। ৩৫তম বিসিএস-এর এই কর্মকর্তা নিজের বাবাকে ‘চাচা’ সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা নিয়ে ক্যাডার হন। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর দুদক মামলা করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালিকায় আছেন এসপিসহ আরও যারা
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে জালিয়াতি করে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) খোরশেদ আলম ও রাকিবুর রহমান খানসহ আরও বেশ কয়েকজন। এছাড়া ৩৮তম ও ৪১তম বিসিএস-এর জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগে আরও ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি পিএসসির সাবেক ড্রাইভার আবেদ আলীর সহায়তায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকুর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুদক।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও দুদকের অবস্থান
বিশেষজ্ঞদের মতে, জালিয়াতির মাধ্যমে যারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্যই থাকে দুর্নীতি করা। দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন:
“জালিয়াতির মাধ্যমে যারা বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া সকল বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়া এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।”
দুদকের মহাপরিচালক (ডিজি) আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নির্দিষ্ট কোনো ব্যাচ বা ক্যাডারকে টার্গেট করে নয়, বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।