মোঃআনজার শাহ
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মাঠপর্যায়ে খানার তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভান্ডারিয়া উপজেলার ৬৩ নম্বর ধাওয়া রাজপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। সভাপতিত্ব করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ভান্ডারিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রতিনিধি ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের তিনি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের যথাযথভাবে শনাক্ত করে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা কর্মসূচির আওতায় আসেন এবং যোগ্য কেউ বঞ্চিত না হন।
সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, নির্ভুল তথ্য এবং দায়িত্বশীল বাস্তবায়নের সমন্বয়েই একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ মানুষের জীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে খানার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণের ভিত্তি তৈরি হবে, যা পরবর্তী পর্যায়ে উপকারভোগী নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের এই সূচনা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ, স্বচ্ছতা ও যথাযথ যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি এগিয়ে নেওয়া গেলে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এর সুফল পৌঁছানোর পথ আরও সুগম হবে।