ভারতের নির্বাচন কমিশনে দুই কমিশনারের ১৪ দফা আপত্তি, প্রকাশ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ

অনলাইন ডেস্ক :

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুই নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির আপত্তিগুলোর মধ্যে ছিল নতুন ভোটারের নাম নিবন্ধন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ফরম-৬ পরিবর্তন এবং ভোটার ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো কোনো সিদ্ধান্ত তাঁদের অজ্ঞাতে নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

একাধিক ক্ষেত্রে দুই কমিশনার কিছু সিদ্ধান্তকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘বেআইনি’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফরম-৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আপত্তি জানান। জুলাইয়ে ফরমটিতে নতুন কিছু তথ্য চাওয়া শুরু হলে এর আগে কমিশনার বিবেক যোশি জানিয়েছিলেন, নিয়ম পরিবর্তন ছাড়া এ ধরনের সংশোধন করা যায় না। পরে কমিশনার সান্ধুও ওই পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করেন।

ভোটার ডেটাবেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই কমিশনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা ক্রমেই দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তাঁরা অডিটের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছেও তুলে ধরেন।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও কমিশনের অভ্যন্তরে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত ৩৮ লাখের বেশি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২২ লাখের বেশি আবেদন বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনর্বহালের জন্য করা হয়েছে এবং ১৬ লাখের বেশি আবেদন করা হয়েছে কিছু নাম বাদ দেওয়ার জন্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম বাদ দেওয়ার আবেদনগুলো কারা করেছেন এবং কীভাবে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনার সান্ধু প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি, কমিশনার বিবেক যোশি কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কেউই এসব আবেদনের ভিত্তি বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কমিশনের অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা এবং দিল্লি, কলকাতা, গোয়া ও মুম্বাইয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তারা এসব তথ্য পেয়েছে। কমিশনের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিরোধী দলগুলোর নেতারাও কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য হিসেবে এসেছে; নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তিগুলোর বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *