মন্ত্রীদের পিএস পদে বিচারকদের পদায়ন কেন অবৈধ নয় হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) পদে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যের পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচারপতি মো. তৌফিক এনামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। বিচারিক দায়িত্বের বাইরে নির্বাহী বিভাগে বিচারকদের পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ সেপ্টেম্বর আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন রিট আবেদন করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস।

রিট আবেদনে জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর ৪(১) বিধির উল্লেখ করে বলা হয়, বিধিমালার তফসিলে অন্তর্ভুক্ত পদগুলোকে সার্ভিসের ক্যাডার পদ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিন বিচারককে নির্বাহী বিভাগের যেসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ওই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয় বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসানকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর ৯ মার্চ যুগ্ম জেলা জজ জি এম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রিট আবেদনে ওই তিন বিচারকের পদায়নসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনগুলোকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদের বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওই তিন বিচারককে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নেরও আবেদন করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জারি করা রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পিএস পদে বিচারকদের এভাবে পদায়ন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *