নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্স। যেখানে হাজারো জমির দলিল সংরক্ষণ করা হয় ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু এই নিরাপত্তার আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভয়ঙ্কর এক দুর্নীতির সিন্ডিকেট। আর সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে অফিস সহকারী আবুল কালামের নাম।
সূত্র জানায়, রেকর্ডরুম শাখায় কর্মরত আবুল কালাম সরকারি কেরানি হয়েও বিলাসী জীবনযাপন করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—চতুর কৌশলে দলিলের বালাম নম্বর পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় কাগজ চাপা রাখা, পুরোনো নথিকে ‘হারিয়ে গেছে’ দেখানোসহ নানান কারসাজির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। এভাবে তিনি জমিয়ে ফেলেছেন কোটি কোটি টাকা।
স্থানীয়রা জানায়, তাঁর রয়েছে মিরপুরে নিজস্ব ফ্ল্যাট, বাড্ডা ও রামপুরায় একাধিক বাড়ি, এমনকি **ফাঁকা জায়গা (প্লট)**ও কিনে রেখেছেন। এলাকায় চলছে প্রভাব-প্রতিপত্তির রাজত্ব। অভিযোগ উঠেছে—অবৈধ সম্পদ রক্ষায় রাজনৈতিক ছত্রছায়াও পেয়েছেন তিনি।
কীভাবে চলে বালাম বদলের খেলা?
রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বশীলদের মতে,
-
ক্রেতা-বিক্রেতা দলিল জমা দেওয়ার পর
-
রেকর্ডরুমেই বালাম/চিনি (ইনডেক্স) পরিবর্তন করা হয়
-
তারপর ওষুধের মতো দলিলে ‘হাত’ চালিয়ে অন্য কারও নামে দলিল টেনে দেওয়া হয়
এভাবে অনেকেই একসময় দেখে—নিজের ক্রয়কৃত জমি আর নিজের নেই!
ক্ষতিগ্রস্তরা নানা জায়গায় অভিযোগ করেও অধিকাংশ সময় নীরবে ফিরে যান ভয় বা প্রভাবের কারণে।
অভিযোগ লুকাতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, কেউ তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুললে,
-
ফাইল আটকে দেওয়া
-
দলিল হারিয়ে ফেলার হুমকি
-
ভুয়া মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো
এসব মাধ্যমে আবুল কালাম নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন।
অভিযোগের পাহাড়—তবুও বহাল তবিয়তে
বিভিন্ন সময় অভিযোগ উত্থাপিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন শক্ত পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে রেকর্ডরুমে দুর্নীতির নেটওয়ার্ক আরও শক্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“দলিল করতে আসি, শেষে দেখি আমাদেরই জমি অন্যের নামে! এভাবে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসছে।”
দ্রুত তদন্তের দাবি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি স্থানীয়দের দাবি—
মিরপুর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরো রেকর্ডরুম শাখায় বিশেষ তদন্ত চালাতে হবে। বালাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কতো মানুষের সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।