মীম শরৎ গ্রুপের সোহাগের খানকার খাদেম ইয়াবাসেবী রতন

উম্মে হানি মায়া:

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের আটা, গম ব্যবসায়ী এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অন্যতম মদদপুষ্ট মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগের অন্যতম সহযোগী, তার প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং ম্যানেজার ও দারুল ইশক হুসাইনিয়া খানকার খাদেম লতিফ সিদ্দিক রতন একজন ইয়াবা আসক্ত ও মাদকসেবী।

শহরের অন্যতম ব্যবসায়ী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আলহাজ্ব সোহাগের অন্যতম সহযোগী রতনের ইয়াবা সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শহরবাসীর প্রশ্ন—সোহাগের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও একটি খানকা পরিচালনাকারী কিভাবে রতনের মতো একজন ইয়াবাসেবীকে তার খানকার খাদেম নিযুক্ত করেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সোহাগের মালিকানাধীন নিতাইগঞ্জে অবস্থিত শাহপরান ফ্লাওয়ার মিলসের ওপর প্রায় প্রতিরাতেই বসে ইয়াবার আসর। ঐ ইয়াবার আসরে রতনের সাথে থাকে পাইকপাড়ার অলি কমিশনারের মাদকাসক্ত ছেলে সজিব ও সানিসহ আরও ৫/৬ জন ইয়াবাসক্ত। তারা সকলেই সোহাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সোহাগের নামে-বেনামে ওএমএস ব্যবসা রয়েছে। ওএমএস-এর বিভিন্ন দোকানে সরকারি বরাদ্দের চাল-আটা রতনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। রতন সরকারি ওএমএস-এর আটা, জনগণের জন্য যেটা বরাদ্দ, সেটা জনগণের মাঝে বিক্রি না করে সোহাগের আটা মিলে নিয়ে যায় অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে। নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোহাগের ব্যবসায়িক চুরিসহ নানা অপকর্মের সহযোগী রতন।

রতনের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রতন শহরের পাইকপাড়া এলাকার ডা. এম আর খানের বাড়ি সংলগ্ন খান বাড়ির ভাড়াটিয়া লন্ড্রির দোকানদার মৃত আক্তারের ছেলে। ছোটকাল থেকেই উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের রতন চলাফেরায় বেপরোয়া। সোহাগের সাথে জড়িত হয়ে রতন ধরাকে সরা জ্ঞান ভাবেন। রতন সোহাগের চোর সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে মোটামুটি ভাবে টাকার মুখ দেখে নিজের ফ্যামিলির সাথেই সম্পর্ক ছিন্ন করে। রতনের বড় ভাই জানায়, রতনের সাথে তাদের পারিবারিক কোনো সম্পর্ক নেই। রতন বাপ-মা বেঁচে থাকতেই আলাদা থাকে। একজন লন্ড্রিওয়ালার ছেলে হঠাৎ করে কিছু টাকার মুখ দেখে নিজেকে অনেক কিছু ভাবা শুরু করে।

রতনের ইয়াবা সেবনের ছবি দেখে মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ বলে, “একে পুলিশে ধরিয়ে দিন।”

ইয়াবা সেবন বিষয়ে জানতে চাইলে রতন বলে, “আমি আমার টাকা দিয়া খাই নাকি ব্যবসা করি, তাতে আপনার কি? আপনি পারলে কিছু করেন।”

এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় রতন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *