বিনোদন ডেস্ক:
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়ল অল্লু অর্জুন ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রাকা’। সিনেমাটির সেটে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার ফিল্মিংয়ের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটির নাম উঠেছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
ভারতীয় সিনেমায় প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যেই ‘রাকা’ নির্মাণ করছেন পরিচালক অ্যাটলি। এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা ফিল্ম স্টুডিওতে একসঙ্গে দুই থেকে তিনজন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার শুটিংয়ের নজির থাকলেও একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে এমন শুটিংয়ের উদ্যোগকে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ‘রাকা’ সিনেমার প্রোডাকশন খরচের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে স্পেশাল এফেক্টসের পেছনে। এ খাতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানা গেছে। সিনেমাটির মোট বাজেট প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইফাই, অ্যাকশন ও ফ্যান্টাসির সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এর ভিএফএক্সের দায়িত্বে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের লোলা ভিএফএক্স। প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিবিদদের একটি বড় দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেটআপ নিয়ে হায়দরাবাদে কাজ করছে। তাদের সহযোগিতায় অ্যাটলি নিজস্ব একটি মোশন ক্যাপচার স্টুডিও তৈরি করেছেন।
‘রাকা’ সিনেমার সিনেম্যাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন জি কে বিষ্ণু। এর আগে ‘মার্সাল’, ‘বিজিল’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।
এদিকে হলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি’, ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’ ও ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট কার্লটন কোলম্যানও অ্যাটলির টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীকে নিয়ে মোশন ক্যাপচার ফিল্মিংয়ের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হওয়ায় সিনেমাটির নির্মাণে যুক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতীয় সিনেমাকে আরও এগিয়ে নেওয়াই অ্যাটলি ও তার টিমের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘রাকা’ সিনেমার গল্পেও রয়েছে ভিন্নধর্মী আয়োজন। একটি পরিবারের বংশতালিকা থেকে চারটি ভিন্ন প্রজন্মের চার চরিত্রকে একই টাইমফ্রেমে তুলে ধরা হবে। আর এই চারটি চরিত্রেই দেখা যাবে অল্লু অর্জুনকে। ইলিউশন ও মিস্ট্রির সমন্বয়ে এগিয়ে যাবে সিনেমাটির গল্প।
‘রাকা’ অল্লু অর্জুনের ফিল্মোগ্রাফির ২২তম সিনেমা এবং পরিচালক অ্যাটলির ষষ্ঠ সিনেমা। মুক্তির আগেই প্রযুক্তিগত সাফল্যের কারণে আলোচনায় উঠে আসা সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।