স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্মাণ বিধিমালা না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রাবাড়ী থানাধীন আর কে চৌধুরী রোডের ৮২/২/বি/৩ নম্বর এলাকায় কায়েম চৌধুরীর বাড়ির পাশে জাহাঙ্গীর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ভবন নির্মাণের আগে ও নির্মাণকাজ চলাকালে আশপাশের ভবন ও জমির মালিকদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নকশা এবং নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন ভবনটির পাশে রাজউকের অনুমোদিত কোনো সাইনবোর্ড কিংবা নির্মাণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চোখে পড়ছে না। স্থানীয় কয়েকজন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভবন নির্মাণ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক রয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের ফলে আশপাশের স্থাপনা ও বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ এবং নির্মাণ বিধিমালা মেনে চলা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন অথরাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নির্মাণ বিধিমালা না মানা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্মাণাধীন ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও প্রচলিত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করবে এবং নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।