আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত ইরান। মঙ্গলবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন। একই ধরনের তথ্য জাপানের কিয়োদো নিউজও প্রকাশ করেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানোর পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিলে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে। এ প্রস্তাব ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে আবারও আলোচনা শুরু করতে চায় তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরতে আগ্রহী—এমন ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার সময়সূচিতে সম্মত হলে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে রয়েছে। ওই প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব এখনো যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।