নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
সমাবেশে নেতারা দাবি করেন, একটি বিশেষ চক্র নিজেদের স্বার্থ ও উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তারা মনে করছেন। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল বা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পুলিশি তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্য তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, রংপুরের এ হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি দেশজুড়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করতে পারে। পাশাপাশি এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, দেশে এখনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ঐক্য পরিষদের হিসাবে, গত জুলাইয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে অন্তত ৪১টি আংশিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ও দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার, আদিবাসীদের ওপর হামলার পাঁচটি এবং বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ১০টি ঘটনা ঘটেছে।
‘রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক : চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে’—স্লোগানসংবলিত ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে অর্ধশতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বিক্ষোভ মিছিলের আগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা সমাবেশ পরিচালনা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিপংকর চন্দ্র শীলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।