রাজউকের অফিস সহকারী মান্নানকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম, প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যেই রাজউকের ‘অফিস সহকারী মান্নান’ নামে এক কর্মচারীকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষস্থানীয় মূলধারার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আব্দুল মন্নান রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের দাপ্তরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন অফিস সহকারী। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ধরনের তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করে আসায় তার প্রভাব ও ভূমিকা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মন্নান সিলেট সদর থানার এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে। তার ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় হোল্ডিং-২-এর একটি ভবনে আব্দুল মন্নানের নামে বা তার মালিকানাসংশ্লিষ্ট একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট নম্বর-৮-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং সম্পত্তি অর্জনের সঙ্গে তার বৈধ আয় ও চাকরির আর্থিক সক্ষমতার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের মতে, একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর নামে একাধিক সম্পত্তি থাকার তথ্য সামনে এলে তার বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী, ক্রয়সংক্রান্ত দলিল এবং অর্থের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন কি না, দাখিল করে থাকলে সেখানে বাড্ডার কথিত ফ্ল্যাটগুলোর তথ্য উল্লেখ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসন প্রকল্প হওয়ায় এ প্রকল্পের দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্লট বরাদ্দ, নথিপত্রের ব্যবস্থাপনা কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়মুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া উচিত।

এদিকে, আব্দুল মন্নানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে পাওয়া যায়নি। ফলে বাড্ডার হোল্ডিং-২-এর কথিত ফ্ল্যাটসহ তার সম্পদসংক্রান্ত তথ্য এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য দলিলের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি কীভাবে দীর্ঘদিন একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

অভিযোগকারীরা মনে করছেন, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের তথ্যও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে অফিস সহকারী আব্দুল মন্নানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে আসা উচিত বলে দাবি তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *