স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় মাদক ব্যবসা কেন্দ্রিক অনিয়ম ও পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মাসোয়ারা গ্রহণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, থানা সংশ্লিষ্ট এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির দাবি, কোতোয়ালি থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোতোয়ালী থানাধীন নয়া সড়ক ফাঁড়ির একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুরাম সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন এবং তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে এসব অর্থ সংগ্রহ করেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক কিছুই পুলিশের জানা থাকার কথা, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং মাদক ব্যবসায়ীরা নির্দ্বিধায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকায় গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসার বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে এবং কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসআই বাবুরামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক্তিয়ার নেই বলে মন্তব্য করেন এবং বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে থানার আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
এদিকে অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অনিয়ম দমন করা যায়। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান থাকা প্রয়োজন, পাশাপাশি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে।