পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রেনে কাটা পড়ে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে ওই নারী রেললাইনে গিয়ে ট্রেনের নিচে পড়েছেন বলে ধারণা করছেন তাঁর স্বজনেরা।
মারা যাওয়া দম্পতি হলেন উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত-মালিগাঁও এলাকার হরেন চন্দ্র বর্মণ (৮২) ও তাঁর স্ত্রী নিত্য বালা (৭৫)। তাঁরা তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় চার মাস ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন স্থানীয় মন্দিরের অধিকারী হরেন চন্দ্র বর্মণ। সোমবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর রাতভর স্বজনদের সঙ্গে স্বামীর মরদেহের পাশে ছিলেন নিত্য বালা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার পর হঠাৎ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান নিত্য বালা। এর কিছুক্ষণ পর ওই এলাকার রেললাইন দিয়ে রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনটি অতিক্রম করে।
ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে রেললাইনের ওপর নিত্য বালাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা। তাঁর বাঁ হাত কাটা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
একসঙ্গে শেষ বিদায়
মঙ্গলবার দুপুরে ওই দম্পতির বাড়ির পাশের শ্মশানে তাঁদের মরদেহ একসঙ্গে দাহ করা হয়। এ সময় বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দম্পতির বড় ছেলে রবিন চন্দ্র বর্মণ বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা রাতভর তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। সকালে মা বাইরে যাওয়ার পরপরই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান। তাঁর ধারণা, স্বামীকে হারানোর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ট্রেন চলে যাওয়ার পর তাঁর ভাতিজা সূর্য বর্মণের চিৎকার শুনে তাঁরা রেললাইনের দিকে যান। সেখানে তাঁর মাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর বাঁ হাত কাটা অবস্থায় লাশের পাশে পড়ে ছিল এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর এভাবে মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকেও জানানো হয়েছে।