রাবিপ্রবি প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরকে ঘিরে অনিয়ম ও অস্থিরতার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)-এর ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও তিনি পুনরায় পদে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বরখাস্তের পরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অগ্রিম বিল উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ, একই খাতে একাধিকবার বিল দেখানো, দরপত্র ছাড়াই কাজ প্রদান এবং ফার্নিচার ও নির্মাণকাজে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো। প্রশাসনের দাবি, এসব অনিয়মের মাধ্যমে কয়েক লাখ থেকে কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে।

এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা জীবনে নিম্ন ফলাফল থাকা সত্ত্বেও এবং পর্যাপ্ত চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও দাবি, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে এবং কিছু শিক্ষার্থীকে উসকানি দিয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরাতে জানা গেছে, পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ ও পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) ছাড়াই কাজ শুরুর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি আইসিটি সংক্রান্ত অনিয়ম, শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে তিনি স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করলেও সর্বশেষ শুনানিতে বরখাস্তের আদেশ বহাল থাকে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, “অনিয়ম ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।”

অন্যদিকে আবদুল গফুর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *