কামরুল ইসলাম:
রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়ায় রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামানের নির্দেশনা এবং পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টার দিকে পটিয়া মডেল থানার একটি দল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
জব্দকৃত আলামত:
গ্রেফতারের সময় আসামির কাছ থেকে বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
একটি ভুয়া আইডি কার্ড, যাতে ইংরেজিতে “CSF Chairperson’s Security Force, ID No-013, Riyed Salim” লেখা রয়েছে; একটি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর; চার্জারসহ একটি ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট (BAOFENG, মডেল BF-888S); একটি সিগন্যাল লাইট; ‘মনিটরিং সেল’ লেখা আরেকটি আইডি কার্ড; একটি ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন (MICRONEX, মডেল MX-31) এবং একটি ITEL বাটন মোবাইল সেট।
প্রতারণার কৌশল:
পুলিশ জানায়, রিয়াদ তার ফেসবুক আইডি “Lion Riyadh Selim”-এ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভুয়া ছবি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করত। প্রাথমিকভাবে এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতারণার শিকার:
মামলার বাদী মোঃ কামরুল হাসান জানান, তিনি জেলহাজতে থাকা অবস্থায় আসামি তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে উচ্চ পর্যায়ের পরিচয়ের কথা বলে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এ প্রলোভনে প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা নং- ০৬ (তারিখ: ৫ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ৪১৭/৪১৯/৪২০/৪০৬/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পূর্বের অপরাধ রেকর্ড:
পুলিশ জানায়, রিয়াদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আকবরশাহ ও চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মামলাগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য:
আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে সে। পাশাপাশি ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।