লালমনিরহাটে জমি বিরোধের জেরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কিশামত চোংগাদ্বারা এলাকায় দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ, বসতঘর ভাঙচুর, ফসল লুট, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আসাদুল হাবিব ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আদালতে দায়ের করা মামলা, ১৬১ ধারায় রেকর্ডকৃত সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং মামলার নথিপত্রে ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জমি-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে আসাদুল হাবিবের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা, দা-কুড়াল ও কেরোসিন নিয়ে ছলে উদ্দিনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রথমে ঘরের টিন ও বাঁশের বেড়া ভাঙচুর করে এবং পরে কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের চৌকি, তোষক, লেপ, বালিশ, মশারি, কয়েক মণ ধান, রান্নার হাড়ি-পাতিল, মেলামাইনের প্লেট-বাটি, কড়াই, চামচ এবং ব্যবহৃত কাপড়চোপড় আগুনে ভস্মীভূত হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দিতে একই ধরনের অভিযোগ

মামলার তদন্তে ১৬১ ধারায় রেকর্ডকৃত একাধিক সাক্ষীর বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে আসাদুল হাবিব ও তার সহযোগীদের লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দেখা যায়। কয়েকজন সাক্ষী দাবি করেছেন, কেরোসিন ছিটিয়ে আগুন লাগানোর ঘটনাও তারা প্রত্যক্ষ করেছেন।

সাক্ষীদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বাদী পক্ষকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ছলে উদ্দিন তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় তার বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অপরদিকে প্রতিবেশী ও আত্মীয় পরিচয় দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীও একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন।

তামাক ক্ষেত লুট ও হত্যাচেষ্টার আরেক অভিযোগ

নথিতে আরও একটি পৃথক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি বিকেলে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে বাদীর চাষ করা ভার্জিনিয়া ও মতিয়ার জাতের তামাক ক্ষেত থেকে প্রায় ২১ মণ তামাক কেটে নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

বাদীর অভিযোগ, তামাক কাটায় বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

মামলার আবেদনে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।

তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়

মামলার নথিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারাসহ পৃথক ঘটনায় ৩২৩, ৩৭৯ ও ৩০৭ ধারার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগগুলো আদালতে দাখিলকৃত মামলা ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে বর্ণিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত আইনগতভাবে তারা দোষী সাব্যস্ত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *