লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

কামরুল ইসলাম

: টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে অসংখ্য বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ দখল ও সংকুচিত হয়ে পড়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে উপজেলার রাজঘাটা মাদ্রাসা সড়ক, পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও রোগীদের যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

পুরাতন থানা এলাকার বাসিন্দা জয় সুশিল জানান, টানা বৃষ্টিতে তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তিনি বলেন, “আরেকটু পানি বাড়লে খাট পর্যন্ত উঠে যাবে। আগে এত পানি জমত না। এখন পানি চলাচলের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যাচ্ছে এবং ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় লোহাগাড়া সদরের পুরাতন থানা গেট থেকে দক্ষিণ বটতলী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজেই বিভিন্ন খাল ও নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি চলাচলের পথ দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সদর ইউনিয়নের ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবিত হচ্ছে। অনেক বসতবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, পানি চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার না করলে আগামী দিনে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তিনি পানি নিষ্কাশনের পথে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের দাবি, চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথ সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।লোহাগাড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

কামরুল ইসলাম, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম): টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে অসংখ্য বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ দখল ও সংকুচিত হয়ে পড়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে উপজেলার রাজঘাটা মাদ্রাসা সড়ক, পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও রোগীদের যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

পুরাতন থানা এলাকার বাসিন্দা জয় সুশিল জানান, টানা বৃষ্টিতে তার বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। তিনি বলেন, “আরেকটু পানি বাড়লে খাট পর্যন্ত উঠে যাবে। আগে এত পানি জমত না। এখন পানি চলাচলের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ডুবে যাচ্ছে এবং ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় লোহাগাড়া সদরের পুরাতন থানা গেট থেকে দক্ষিণ বটতলী পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজেই বিভিন্ন খাল ও নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পানি চলাচলের পথ দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সদর ইউনিয়নের ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবিত হচ্ছে। অনেক বসতবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, পানি চলাচলের পথ পুনরুদ্ধার না করলে আগামী দিনে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তিনি পানি নিষ্কাশনের পথে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা দ্রুত অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের দাবি, চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পথ সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *