মোঃআনজার শাহ
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ, সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে অনলাইনে বরাদ্দ কার্যক্রম চালু করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইন বাসা বরাদ্দের ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবা সহজীকরণই সরকারের অঙ্গীকার। মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে অনলাইনে বরাদ্দের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান।
আবেদন ও যাচাই-বাছাইয়ের চিত্র
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে বাসা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
বিভিন্ন শ্রেণির মোট শূন্য বাসা: ৫৪টি
মোট আবেদন: ৫৯৬টি
যাচাই-বাছাইয়ে গ্রহণযোগ্য আবেদন: ৩৪২টি
প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাতিল: ২৫৪টি
অর্থাৎ প্রতিটি শূন্য বাসার বিপরীতে গড়ে ১১টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা সরকারি বাসার প্রতি বরাদ্দপ্রত্যাশীদের তীব্র চাহিদার চিত্র তুলে ধরে।
ম্যানুয়াল থেকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায়
এত দিন সরকারি বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হতো। প্রযুক্তির ব্যবহারে সেবা আরও জনবান্ধব করতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এখন বরাদ্দ সেবাটিকে স্বয়ংক্রিয় করেছে।
অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের ফলে বরাদ্দপ্রত্যাশীরা সহজেই ঘরে বসে ফল জানতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি বাসা বরাদ্দ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, নাগরিকের হাতের নাগালে সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। অনলাইন বরাদ্দ ব্যবস্থা সরকারি বাসা বরাদ্দকে আরও নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।