স্টাফ রিপোর্টার:
সাভারের আশুলিয়া থানাধীন ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সরকারি সেবা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রদানকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কাজ করাতে গেলে এখন ‘নিয়ম’ নয়, বরং ‘অর্থ’ই মূল নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাতা কার্ড, জন্ম—মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে না পারলে ফাইল আটকে রাখা, হয়রানি করা বা দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে রাখা হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।
একজন বয়স্ক নারী ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি ভাতার কার্ড তো বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। চার মাস ধরে ঘুরছি, এখনো কাজ হয়নি।” ভাতা কার্ডকে কেন্দ্র করে ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ: অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মচারী ও স্থানীয় দালালচক্রকে ব্যবহার করে একটি সুসংগঠিত ঘুষ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর আর্থিকভাবে সক্ষম বা ঘুষ দিতে সক্ষম ব্যক্তিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা—নতুন অভিযোগ: সম্প্রতি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদে গেলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়।
সূত্রের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় ইউপি সচিব আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি ভিন্নভাবে ‘সমঝোতার’ চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, যাতে বিষয়টি প্রকাশ না পায় বা সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা—সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী আচরণ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া: স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ হলো তৃণমূল মানুষের শেষ ভরসাস্থল।
সেখানে যদি ভাতা কার্ডসহ মৌলিক সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে যায়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। ফলে দুর্নীতিবাজ একটি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এটা শুধু দুর্নীতি নয়, এটা গরিব মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া। যারা সবচেয়ে অসহায়, তারাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি: অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি ইউনিয়নের নয়, বরং পুরো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে।