স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সুলতান মাহমুদ আরজু (৩০) নামক এক যুবককে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তার স্ত্রী আসমাউল হুসনাকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ এপ্রিল) তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের চর খাগরিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুলতান মাহমুদ আরজুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সে সময় পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-২১/২৫) দায়ের করেছিল। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছিল।
১২ এপ্রিল নিহতের ছোট ভাই ওয়াসেদ মোহাম্মদ সৌরভ বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের স্ত্রী আসমাউল হুসনা, শ্যালক মো. মিরাজ (২৫), শাশুড়ি আমেনা বেগম (৬০) এবং ফাতেমা আক্তার মুন্নী (২৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পরপরই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আসমাউল হুসনাকে আটক করেন।
সাতকানিয়া থানা পুলিশ জানায়, বাদীর এজাহারের প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে (মামলা নং-১৫)। প্রাথমিক তদন্ত ও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত সুলতান মাহমুদ আরজু চর খাগরিয়া মহাজন পাড়ার ওয়ারেছ আহমদের ছেলে। তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ধোঁয়াশা ছিল, যা এখন হত্যা মামলার মাধ্যমে নতুন মোড় নিয়েছে।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হক বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বদা বদ্ধপরিকর। প্রাথমিক তদন্ত ও বাদীর এজাহারের প্রেক্ষিতে আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি।
প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছি, যেন ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পায়। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।