সিএমপির বাকলিয়া থানায় কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের আওতাধীন বাকলিয়া থানার কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিসি (দক্ষিণ)-এর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং। সভায় বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এ সময় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাকলিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

বক্তারা মনে করেন, কোনো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এলাকার অপরাধপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশকে সময়মতো অবহিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং তাঁদের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা, অপরাধসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানোর বিষয়ে সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। পাশাপাশি তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

উপস্থিত সদস্যদের মতে, অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কার্যকর করতে হলে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সহজ ও আস্থাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি অপরাধসংক্রান্ত তথ্য জানালে তা যথাযথভাবে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে গুজব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করার বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

সভায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক উদ্যোগ এবং ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব উঠে আসে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষকদের ভূমিকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো সহায়ক হতে পারে। তবে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ বিবেচনা করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সভাপতির বক্তব্যে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং বলেন, “নিরাপদ এলাকা গড়তে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।” তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের আইনের সীমার মধ্যে থেকে তথ্য ও সচেতনতার মাধ্যমে পুলিশকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, এলাকার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্য অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। এ কারণে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার এবং যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সভায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে সতর্কতা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও কমিউনিটি সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাকলিয়া একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সভায় উঠে আসে। এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধ প্রতিরোধে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *