বিশেষ প্রতিনিধি:
রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করেছে সরকার। এখন থেকে সুতা ও কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারকদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমতি নিতে হবে না। এতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময়ও কমতে পারে।
এক মাস আগে জারি করা আমদানি নীতি আদেশে সুতা ও কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের আপত্তির পর সেই শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। গত রোববার আমদানি নীতি আদেশ সংশোধন করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল সুতা ও কাপড়। এসব কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হলে উৎপাদন ও রপ্তানির সময়সূচিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এ প্রক্রিয়া সহজ হলো।
আমদানি নীতি আদেশের আরও একটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারবে। একইভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধনি যন্ত্রপাতি সচল ও উৎপাদনক্ষম রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও আমদানি করা যাবে।
অর্থাৎ নতুন শিল্প স্থাপনের সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে আলাদাভাবে আইআরসি দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকছে না।
এ ছাড়া বিমা পলিসি-সংক্রান্ত ধারাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশি কোনো বিমা কোম্পানি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি বিমা কোম্পানির দেওয়া কভার নোট ও সংশ্লিষ্ট বিমা পলিসি পণ্য খালাসের সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে অনলাইনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।
লবণ আমদানির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। বড় লাইসেন্সধারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কত পরিমাণ লবণ আমদানি করতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বার্ষিক প্রয়োজন ও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত প্রয়োজন ও আগের ব্যবহারের তথ্য বিবেচনায় নিয়েই লবণ আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লবণ আমদানির সুযোগ কমবে।