মেহেদী হাসান:
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি গ্রামে এক বৃদ্ধ পিতার ওপর নিজের ছেলের অমানুষিক নিষ্ঠুরতার খবর পাওয়া গেছে। পৈত্রিক জমি লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ পিতা জামসের আলিকে গত দুই বছর ধরে একটি পরিত্যক্ত অন্ধকার মাটির ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যে ঘরটিতে বৃদ্ধ জামসের আলিকে রাখা হয়েছে, সেটির জরাজীর্ণ চালে কয়েকশ ফুটো। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে ঘরের ভেতর সবকিছু ভিজে একাকার হয়ে যায়। নেই বিদ্যুৎ, নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে এবং মাকড়সার জালে ঘেরা সেই ঘরে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় মানবেতর দিন কাটছে এই বৃদ্ধের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে জামসের আলিকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না এবং মাসের পর মাস তাকে গোসল করানো হয় না। দীর্ঘদিন অযত্ন আর অবহেলায় থাকায় বৃদ্ধের শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরতে শুরু করেছে। একসময়কার সুস্থ-স্বাভাবিক এই মানুষটি এখন নিজ সন্তানের হাতেই যেন এক জীবন্ত লাশে পরিণত হয়েছেন।
জানা গেছে, স্ত্রীর প্ররোচনায় বৃদ্ধের কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি লিখে নেয় তার ছেলে। এরপর থেকেই তার ওপর শুরু হয় এই চরম অবহেলা ও নির্যাতন। বৃদ্ধের এই করুণ দশা দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
একটি স্বাধীন দেশে নিজ সন্তানের হাতে বাবার এমন করুণ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসী অবিলম্বে এই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং পাষণ্ড ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।